Back

ⓘ তাজিকিস্তানের ইতিহাস. তাজিকিস্তান এর নাম শুনা যায় সামানি সাম্রাজ্য থেকে। তাজিক জনগণ রাশিয়ার শাসনে আসে ১৮৬০ দশকের দিকে। বাসমাখী বিদ্রোহ সাহায্য করে ১৯১৭ সালের ..



তাজিকিস্তানের ইতিহাস
                                     

ⓘ তাজিকিস্তানের ইতিহাস

তাজিকিস্তান এর নাম শুনা যায় সামানি সাম্রাজ্য থেকে। তাজিক জনগণ রাশিয়ার শাসনে আসে ১৮৬০ দশকের দিকে। বাসমাখী বিদ্রোহ সাহায্য করে ১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লব এর এবং যার ফলাফল ১৯২০ দশকের রুশ গৃহযুদ্ধ। ১৯২৪ সালে তাজিকিস্তান সোভিয়েত ইউনিয়নের স্বায়ত্তশাসিত সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্এর অংশ হয় উজবেকিস্তানের সাথে। ১৯২৯ সালে তাজিকিস্তান সোভিয়েত ইউনিয়নের একটি মূল অংশ হয়ে দাঁড়ায় – তাজিক সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র নামে –এবং এটি ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মাধ্যমে স্বাধীনতা পূর্ব পর্যন্ত থাকে।

তখন থেকে এটি সরকার এবং তাজিক গৃহযুদ্ধের তিনটি অভিজ্ঞতা লাভ করে। ১৯৯৭ সালে প্রতিদ্বন্দ্বী দলসমূহের মধ্যে একটি শান্তিচুক্তি হয়।

                                     

1. প্রাচীনত্ব ৬০০ খ্রিষ্টপূর্ব – ৬৫১ খ্রিষ্টাব্দ

ব্রোঞ্জ যুগে তাজিকিস্তান ব্যাক্টিরিয়-মার্জিয়ানা প্রত্নতত্ত্বীয় মিশ্রণের অংশ ছিল, প্রোটো-ইন্দো-ইরানীয় বা প্রোটো-ইরানীয় সাংস্কৃতির প্রার্থী। প্রথম শ্রেণীর প্রাচীনত্বের মধ্যে তাজিকিস্তান স্কাইথিয়া এর অংশ ছিল।

আধুনিক তাজিকিস্তানের বেশিরভাগ অংশই ছিল প্রাচীন কাম্বুজা এবং পারামা কাম্বুজা রাজ্যের অংশ, যার উল্লেখ পাওয়া যায় ভারতীয় মহাকাব্য মহাভারত এর মধ্যে। ভাষাবিজ্ঞান এর প্রমাণ সাথে প্রাচীন সাহিত্য এবং লিপি অনেক ইন্দো বিজ্ঞানী সমাপ্তি টানেন যে প্রাচীন কাম্বুজাস মূলত ছিল মধ্য এশিয়ার অংশ। আচারিয়া ইয়াস্কা র নিরুক্তা ৭ম খ্রিস্টপূর্ব শতকে সাক্ষ্য দেয় যে ক্রিয়া" সাভাতি” ব্যাবহার করা হয়" যাও” অর্থে মূলত শুধুমাত্র কাম্বুজাসদের দ্বারা ব্যাবহৃত হত। দেখানো হয় যে আধুনিক গালছা উপভাষা মূলত পামির ভাষায় বলা হয় এবং অক্সাস নদীর দেশগুলো এখনো প্রাচীন কাম্বুজার" সাভাতি” শব্দটি ব্যাবহার করে" যাও” অর্থে। ইয়াগনুবী প্রদেশে যেটি সগডিয়ানায় জেরাভসান উপত্যকায় প্রচলিত ইয়াগনুবী উপভাষাতে প্রাচীন কাম্বুজার অনশিষ্টাংশ" সু” আছে যেটি ‘সাভাতি’ থেকে যা ‘যাও’ অর্থে ব্যবহৃত। উপরন্তু, স্যার জর্জ গ্রিয়ারসন বলেন যে বাদাখশান এর উপস্থিতির বুলি ছিল অনেকটা নরম তিন শতাব্দী আগে ফার্সি এর স্থানচুত্যির পূর্ব পর্যন্ত। যদিও, প্রাচীন কাম্বুজার মধ্যে সম্ভবত রয়েছে বাদাখশান, পামিরস এবং উত্তরাঞ্চল যার মধ্যে ছিল অক্সাস এবং জাক্সারটাস এর ইয়াগনুবী প্রদেশ দোয়াবের মধ্যে। পূর্বদিকে ইয়ার্কান্দ এবং কাশগর দ্বারা মোটামোটিভাবে বেষ্টিত ছিল, পশ্চিমদিকে বালখ উত্তরমদ্রা, উত্তর-পশ্চিমদিকে সোগাদিয়ানা, উত্তরদিকে উত্তরকুরু, দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে দার্দা এবং দক্ষিণ দিকে গান্ধারা দ্বারা। অসংখ্য ভারততত্ত্ববিদ মূল কাম্বুজাকে সনাক্ত করেন পামিরস এবং বাদাখশান এর মধ্যে এবং পার্মা কাম্বুজাকে দূর উত্তর, অতি-পামিরীয় সীমানা অংশীভূত করে জেরাভশান উপত্যকাকে, উঁচু উত্তর হচ্ছে সোগদিয়ানা/ফারগ্না এর অংশ – প্রাচীন লেখদের স্কাইথিয়ায় । যদিও, বুদ্ধপূর্ব সময়ে খ্রিস্টপূর্ব ৭ম বা ৬ষ্ট শতক, সোগাদিয়ানার জেরাভিশান উপত্যকাসহ আধুনিক তাজিকিস্তান মিলে প্রাচীন কাম্বুজা এবং পারামা কাম্বুজা রাজ্য প্রতিষ্টিত হয়েছিল এবং এটি ইরানী কাম্বুজাদের দ্বারা শাসিহত যতদিন না এটি আকিমিনীয় সাম্রাজ্য এর অংশ হয়ে উঠে।

সোগাদিয়ানা, ব্যাক্টরিয়া, মার্ভ‌ এবং খোয়ারিজম ছিল প্রাচীন মধ্য এশিয়ার চারটি প্রধান বিভাগ যেটি অধ্যুষিত হয় বর্তমান সময়ের তাজিকিস্তানের তাজিক জাতির পূর্বপুরুষ দ্বারা। বর্তমানে তাজিকদের পাওয়া যায় শুধুমাত্র ঐতিহাসিক ব্যাক্টরিয়া এবং সোগাদিয়ানায়। মার্ভ অধ্যুষিত হয় তুর্কি দ্বারা এবং খোয়ারিজম অধ্যুষিত হয় উজবেক এবং কাজাক জাতি দ্বারা। সোগাদিয়ানা সৃষ্টি হয় জেরাভশান এবং কাশকা-দরিয়া নদী উপত্যকা দ্বারা। বর্তমানে সোগাদিয়ানার জীবিত মানুষ যারা সোগদিয় উপভাষায় কথা বলে তারা হচ্ছে ইয়াগনুবীয় এবং শুঙ্গানীয়। ব্যাক্টরিয়া সনাক্ত করা হয় আফগানিস্তানের উত্তরদিকেবর্তমান আফগান তুর্কিস্থান হিন্দু কোস এবং আমু দরিয়াঅক্সাস নদীর মধ্যবর্তী পর্বতাঞ্চলে এবং বর্তমান দক্ষিণ কাজিকিস্তানের কিছু অঞ্চলে। বিভিন্ন সময়ে, ব্যাক্টরিয়া ছিল বিভিন্ন রাজ্য এবং সম্রাজ্যের কেন্দ্র এবং সম্ভবত সেখানে জরাথুস্ট্রবাদ এর উৎপত্তি হয়। জরাথুস্ট্রবাদের ধর্মীয় গ্রন্থ আভেস্থা পুরনো-ব্যাক্টরিয়ান উপভাষায় লিখা, ধারণা করা হয় যে জরথুস্ত্র খুব সম্ভবত ব্যাক্টরিয়াতে জন্মগ্রহণ করেন।

                                     

1.1. প্রাচীনত্ব ৬০০ খ্রিষ্টপূর্ব – ৬৫১ খ্রিষ্টাব্দ আকিমিনীয় সাম্রাজ্য৫৫০ খ্রিষ্টপূর্ব – ৩২৯ খ্রিষ্টপূর্ব

আকিমিনীয় সাম্রাজ্যের শাসনকালে, সোগাদিয়ানা এবং ব্যাক্টরিয়া ছিল ফার্সি সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত। সোগাদিয়ানা এবং ব্যাক্টরিয়া তখন আকিমিনীয় সাম্রাজ্যের প্রশাসন এবং সামরিকদের গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসাবে অধৃকিত করেছিল।

                                     

1.2. প্রাচীনত্ব ৬০০ খ্রিষ্টপূর্ব – ৬৫১ খ্রিষ্টাব্দ হেলেনিস্টিক সাম্রাজ্য৩২৯-৯০ খ্রিষ্টপূর্ব

ফার্সি সাম্রাজ্য যখন মহান আলেকজান্ডার দ্বারা পরাজিত হয়, ব্যাক্টরিয়া, সোগাদিয়ানা, এবং মার্ভ অঞ্চলসমূহ ফার্সি সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় তাদের নিজেদেরকে প্রতিহত করতে হয়েছে নতুন অনুপ্রবেশকারীদের থেকে। এমনকি ম্যাসেডোনিয়ার লোকদের বেশ শক্তভাবে সহ্য করতে হয়েছে সোগাদিয়ানার শাসোক স্পিটামিনিসকে। মহান আলেকজান্ডার কোনভাবে স্থানীয় শাসকের মেয়ে রোকসানাকে বিয়ে করতে পেরিছিলেন এবং তার রাজ্যের উত্তরাধিকার লাভ করেছিলেন। আলেকজান্ডারের দখলের পর, হেলেনিস্টিক সাম্রাজ্য এর উত্তরাধিকারী রাজ্য সেলেসুয়িড এবং গ্রিক-ব্যাক্টরিয়াকে আরো ২০০ বছর শাসন করে যেটি গ্রিক-ব্যাক্টরিয়া সাম্রাজ্য নামে পরিচিত ছিল। ৯০ খ্রিষ্টপূর্ব থেকে ৩০ খ্রিষ্টপূর্ব পর্যন্ত সময়ে, হেলেনিস্টিকের শেষ উত্তরাধিকারী রাজ্য ইহুজীদের দ্বারা ধ্বংস করে এবং তুকাহারিযাদের সাথে তাদের গাঁড় সম্পর্ক ছিল এর সাথে তারা খুশান সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে ৩০ খ্রিষ্টপূর্বের দিকে।

                                     

1.3. প্রাচীনত্ব ৬০০ খ্রিষ্টপূর্ব – ৬৫১ খ্রিষ্টাব্দ খুশান সাম্রাজ্য৩০ খ্রিষ্টপূর্ব – ৪১০ খ্রিষ্টাব্দ

আরো ৪০০ বছরের জন্য, ৪১০ খ্রিষ্টাব্দের পূর্ব পর্যন্ত, খুশান সাম্রাজ্য ছিল রোমান সাম্রাজ্য, পার্থিয়া সাম্রাজ্য, এবং চীনের হান সাম্রাজ্য এর সাথে সে এলাকার প্রধান শক্তিগুলোর মধ্যে একটি ছিল। খ্রিষ্টপূর্ব ২য় শতাব্দীতে যখন হান সাম্রাজ্য এর কূটনৈতিক এই এলাকা ভ্রমণ করেন তখন স্থানীয় লোকদের সাথে উল্লেখযোগ্য যোগাযোগ করা হয়েছিল। খুশান সাম্রাজ্যের শেষে, সাম্রাজ্য অনেক ছোট হয়ে এসেছিল এবং তাদেরকে শক্তিশালী সাশানিদ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে প্রতিহত করতে হয়েছিল যারা পার্থিয়া সাম্রাজ্যকে প্রতিস্থাপিত করেছিল। জনপ্রিয় খুশান রাজা কানিশকা বৌদ্ধ ধর্মকে উন্নীত করেন এবং সে সময় বৌদ্ধ ধর্ম মধ্য এশিয়া থেকে চীনে যায়।

                                     

1.4. প্রাচীনত্ব ৬০০ খ্রিষ্টপূর্ব – ৬৫১ খ্রিষ্টাব্দ সাশানীয়, হেপথালীয় এবং গকতুর্ক ২২৪-৭১০

সাশানীয়রা যতটুকু শাসন করেছে তার প্রায় সবকিছুই এখন তাজিকিস্তান, কিন্তু হেপথালীয়সম্ভবত ইরানী গোত্এর কাছে তাদের অঞ্চল হারায় প্রথম ফিরোজের শাসনকালে।

তারা একটি শক্তিশালী সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে যেটি ইরানকে একটি করদ-রাজ্যে পরিণত করে ৪৮৩-৪৮৫ সালের দিকে। ফার্সির শাহ ফিরোজ হেপথালীয়দের সাথে তিনটি যুদ্ধ করে। প্রথম যুদ্ধে সে হেপথালীয় সৈন্যের হাতে বন্দি হয় এবং পরবর্তিতে বাইজেন্টাইন সম্রাট তাকে মুক্তিপণ দিয়ে মুক্ত করেন। দ্বিতীয় যুদ্ধে ফিরোজ আবার বন্দি হন, এবং হেপথালীয় রাজাকে বিশাল চাঁদা দিয়ে মুক্তি লাভ করেন। তৃতীয় যুদ্ধে ফিরোজ নিহত হন। হেপথালীয়দের বশে আনা হয় ৫৬৫ সালে সাশানীয় এবং কক-তুর্কদের সম্মিলিত শক্তিতে। পরবর্তিতে কক-তুর্ক এবং সাশানীয় উভয়েই বর্তমান তাজিকিস্তান শাসন করে।সাশানীয় সাম্রাজ্যের পতনেপর তুর্কিরা তা শাসন করে কিন্তু চীনের লোকদের কাছে শাসন হারায়, তাসত্ত্বেও, তারা কোনভাবে পরবর্তিতে তাজিকিস্তানের শাসন পুনদখল করে, শুধুমাত্র ৭১০ সালে আরবদের কাছে তা হারানোর জন্য।



                                     

2. মধ্যযুগীয় ইতিহাস৭১০ – ১৫০৬

কারখানিদ৯৯৯-১২১১ এবং খোয়ারিজম১২১১-১২১৮

সামানিয়দের পতনের ফলে মধ্য এশিয়া হয়ে উঠে অসংখ্য অনুপ্রবেশকারীদের যুদ্ধ ময়দান যারা উত্তর-পূর্ব থেকে এসেছিল।

মঙ্গল শাসন ১২১৮-১৩৭০

মঙ্গোল সাম্রাজ্য পুরো মধ্য এশিয়াজুড়ে ছড়িয়ে পরে, খোয়ারিজম সাম্রাজ্য আক্রমণ করে এবং বুখারা ও সমরকন্দ শহরসমূহ ধ্বংস করে, সবজায়গা জুড়ে লুঠ এবং মানুষদের হত্যা করে।

                                     

2.1. মধ্যযুগীয় ইতিহাস৭১০ – ১৫০৬ আরবের খিলাফত৭১০-৮৬৪

ট্রান্সক্সিয়ানিয়া এর আগে কখনো এতো টেকসই মৈত্রীপূর্ণ আধিপত্য লাভ করেনি। ৬৫১ সালের শুরুর দিকে আরবরা সুগঠিতভাবে ট্রান্সক্সিয়ানিয়ার গভীরে শাসন শুরু করে, কিন্তু সেটি ৭০৫ সালে প্রথম ওয়ালিদের শাসনকালে ইবনে কুতুবিয়া খোরাসান গভর্নর হিসাবে আসার পূর্ব পর্যন্ত নয়। সে খিলাফত যুক্ত করার নীতি ধার নেয় এবং অক্সাস এর দূরবর্তি অঞ্চল দখল করে। ৭১৫ সালে যুক্ত করার পরিকল্পনা সম্পন্ন হয়। পুরো অঞ্চল খিলাফত এবং ইসলামের শাসনের মধ্যে আসে, ফলে আরবরা স্থানীয় সোগাদিয়ান রাজা এবং দিখানদের মধ্যে শাসন করতে থাকে। আব্বাসীয় খিলাফত৭৫০-১২৫৮ শাসনে উত্তীরণের ফলে মধ্য এশিয়ায় এক নতুন যুগের সূচনা হয়। যখন তাদের পূর্বসুরীর উমাইয়াত৬৬১-৭৫০ আরবের গোত্রগুলোর মধ্যে মৈত্রীতায় অমনোযোগী ছিল, সেখানে আব্বাসীয়রা বহুজাতিক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠা করে যেটি সাশানীয়দের জন্য অনুকরণীয় এবং নিখুঁত শাসনযন্ত্র হয়ে উঠে। তারা সুদূর পূর্ব এবং ট্রান্সক্সিয়ানাকে একত্বতা প্রদান করে যেটি মহান আলেকজান্ডারের সময় থেকে তাদের মধ্যে অনুপস্থিত ছিল।

                                     

2.2. মধ্যযুগীয় ইতিহাস৭১০ – ১৫০৬ কারখানিদ৯৯৯-১২১১ এবং খোয়ারিজম১২১১-১২১৮

সামানিয়দের পতনের ফলে মধ্য এশিয়া হয়ে উঠে অসংখ্য অনুপ্রবেশকারীদের যুদ্ধ ময়দান যারা উত্তর-পূর্ব থেকে এসেছিল।

                                     

2.3. মধ্যযুগীয় ইতিহাস৭১০ – ১৫০৬ মঙ্গল শাসন ১২১৮-১৩৭০

মঙ্গোল সাম্রাজ্য পুরো মধ্য এশিয়াজুড়ে ছড়িয়ে পরে, খোয়ারিজম সাম্রাজ্য আক্রমণ করে এবং বুখারা ও সমরকন্দ শহরসমূহ ধ্বংস করে, সবজায়গা জুড়ে লুঠ এবং মানুষদের হত্যা করে।

                                     

2.4. মধ্যযুগীয় ইতিহাস৭১০ – ১৫০৬ তৈমুরি সাম্রাজ্য ১৩৭০-১৫০৬

তৈমুরি সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন তৈমুর, যে ৮ এপ্রিল ১৩৩৬ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করে সমরকন্দের পাশে কেশ এ। সে তুর্কিউদ্ভোত বারলাশ গোত্র, যেটি মঙ্গোলের একটি উপ-পদ যা ট্রান্সক্সিয়ানার স্থায়ী হয়েছিল তার সদস্য ছিল চেঙ্গিস খানের ছেলে চাগাতি এর সাথে একটি অভিযানে অংশ নেয়ার পর। তৈমুর তার জীবন শুরু করে ডাকাত দলের সর্দার হয়ে। সে সময় তার পায় একটি তীরের আঘাত পায় এবং যার ফলে তার নাম ল্যাংড়া তৈমুর বা তৈমুর-এ লাং দারিতে হয়। যদিও হেরাতের শেষ তৈমুর শাসক বদি-উজ-জামান পরাজিত হয় উজবেক মোহাম্মদ সাইবানি খানের সৈন্যদের কাছে ১৫০৬ সালে, ফেরঘানা এর তৈমুর শাসক জহির উদ্দিন বাবর সে যাত্রায় বেঁচে যান এবং পুনরায় তৈমুরি সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন যা ভারতে ১৫২৩ সাকে মুঘল সাম্রাজ্য নামে পরিচিত হয়।

                                     

3.1. প্রাথমিক আধুনিক সময়ের ইতিহাস১৫০৬ – ১৮৬৮ তুর্কি শাসন১৫০৬-১৫৯৮

সায়বানিদ রাজ্য বিভাজিত হয় উপরাজ্যে বংশধরদের সকল পুরুষ সদস্যের মধ্যেসুলতান, যারা মনোনীত হয় সর্বোচ্চ নেতাখান, গোত্রের প্রবীণতম সদস্য দ্বারা। খানের সিংহাসন ছিল প্রথমে সমরকন্দে যেটি তৈমুরদের রাজধানী, কিন্তু কিছু কিছু খানরা তাদের রাজ্যেই থাকতে বেশি সাচ্ছন্দবোধ করতেন। যদিও বুখারা প্রথম খানদের সিংহাসন হয় উবাইদ আলী খানের শাসনকালে শাসনকালঃ ১৫৩৩ -১৫৩৯।

রাজনৈতিক বিস্তার এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বেশিদিন ধারণ করেনি। আব্দুল্লাহ খানের মৃত্যুপর সায়বানিদ রাজবংশের সমাপ্তি কিছুদিনের মধ্যেই হয় এবং তারা প্রতিস্থাপিত হয় জানিদ বা অস্ত্রখানিদ রাজবংশ দ্বারা, যেটি জখীদের বংশদরদের আরেকটি উপশাখা, যার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন জানি খান যার সাথে আব্দুল্লাহ খানেরও সম্পর্ক ছিল, আব্দুল্লাহ খানের বোনকে বিয়ের মাধ্যমে। বলা হয়ে থাকে অস্ত্রখনিদরা হাশেমীদের সাথেও যুক্ত ছিল ইমাম কলি খানের সৈয়দ উপমর্যাদার কারণে। তাদের বংশধররা আজও ভারতে বসবাস করে আসছে। ১৭০৯ সালে পূর্বদিকের বুখারার খান্তে আলাদা হয়ে কখান্দ খান্তে গঠিত হয়। যদিও কখান্দ খান্তে থেকে পূর্বদিকের অংশ বর্তমান তাজিকিস্তান, যেখানে পশ্চিমদিকের অংশ বুখরার খান্তে হিসাবে থেকে গেছে।



                                     

3.2. প্রাথমিক আধুনিক সময়ের ইতিহাস১৫০৬ – ১৮৬৮ ফার্সি এবং বুখরীয়দের শাসন১৭৪০-১৮৬৮

১৭৪০ সালে জানিদ খান্তে দখল করেন নাদের শাহ, পারস্যের আফছারিদ রাজবংশের শাসক। জানিদ খান আবু আল-ফাইজ তার সিংহাসনেই থাকেন নাদেরের অধীনে।

১৭৪৭ সালে নাদের শাহের মৃত্যুপর মাঙ্গিয় গোত্রের প্রধান মোহাম্মদ রহিম বিন আজালিক অন্যান্য গোত্রের প্রতিদ্বন্দ্বীদের পরাস্ত করে বুখারা খান্তের শাসন দৃঢ় করেন। যদিও তার উত্তরাধিকারী খানদের নামে শাসন করে। ১৭৮৫ সালে শাহ মুরাদ তার পারিবারিক বংশমাঙ্গিত রাজবংশ সাজান এবং খান্তে হয়ে যায় বুখরা আমিরাত ।

                                     

4.1. আধুনিক ইতিহাস১৮৬৮ – ১৯৯১ রুশ অধীনস্তা ১৮৬৮-১৯২০

রুশ সাম্রাজ্যবাদ রুশ সাম্রাজ্যকে নিয়ে যায় মধ্য এশিয়া বিজয় করতে ১৯শতকে শেষের দিকে সাম্রাজ্যবাদ যুগে। ১৮৬৪ থেকে ১৮৮৫ পর্যন্ত রাশিয়া ধীরে ধীরে রুশ তুর্কেনিস্তানের পুরো অঞ্চল দখল করে, তাজিকিস্তান অংশ যেটি বুখরার আমির এবং কখান্দযেটি আজকের কাজাখস্তান সীমান্ত উত্তরে, কাস্পিয়ান সাগর পশ্চিমে এবং আফগানিস্তান সীমান্ত দক্ষিণে এর খান্তে দ্বারা পরিচালিত। তাসখান্ত ১৮৬৫ সালে দখল হয় এবং ১৮৬৭ সালে তুর্কিস্তান গভর্নর-জেনারেল তৈরি করা হয় কন্সটান্টিন পেট্রোভিক ভন কফম্যান কে প্রথম গভর্নর-জেনারেল হিসাবে।

১৮৬০ দশকের শুরুর দিকে আমেরিকার গৃহযুদ্ধ এবং রাশিয়ার অর্থনৈতিক আগ্রহ থেকে এই বিস্তার অনুপ্রাণিত ছিল, আমেরিকার গৃহযুদ্ধ যেটি রুশ শিল্পতে কটন সরবরাহ করতে ব্যাঘ্যাত করছিল এবং রাশিয়া বাধ্য হয়ে মধ্য এশিয়ার দিকে দৃষ্টি দেয় কটন সরবরাহের বিকল্প বাজার খুঁজতে যেটি রাশিয়ার জন্যও লাভবান হবে। রুশ শাসকরা ১৮৭০ দশকের দিকে চাষবাদের অঞ্চলসমূহকে কটন উৎপাদনে বদলানোরএকটি প্রক্রিয়া যেটি পরবর্তিতে সোভিয়েতরা অনুকরণ করে বিস্তৃত লাভ করে। ১৮৮৫ সালের মধ্যে তাজিকিস্তান অঞ্চল হয় রুশ সাম্রাজ্য দ্বারা অথবা তার সহকারী অঞ্চল দ্বারা শাসিত হয়, বুখরার আমিরাত এমনকি তাজিকরা কিছু রুশ প্রভাব অনুভব করতে পারে।

রুশ সাম্রাজ্য অনেক বড় রাজ্য হয় বিশাল জনসংখ্যা নিয়ে এবং সাথে একটি অত্যাধুনিক সৈন্যবাহিনী নিয়ে তাদের তাজিক জনসংখ্যা দ্বারা অধ্যুষিত অঞ্চল দখল করতে কিছু কষ্ট করতে হয়, জিজাক্কা, উরা-তায়ুব অঞ্চলে বিশাল বাধার সম্মুখীন হয় এবং সমরখন্দ এ পৌছায় ১৮৬৮ সালে তখন শহরিসবজ এর সৈন্য এবং সে এলাকার বাসিন্দারা তাদের ঘিরে ফেলে। বুখারা আমিরাত এর সেনাবাহিনী তিনবার পরাজিত হয়, এবং ১৮৬৮ সালের ১৮ জুন আমির মোজাফফর উদ্দিন শাসনকালঃ ১৮৬০-১৮৮৫ রুশ তুর্কিস্তান গভর্নর জেনারেল ভন কফম্যান এর সাথে একটি শান্তি চুক্তি করেন। সমরখন্দ এবং জেরাবশান রাশিয়ার সাথে সংযুক্ত হয় এবং রুশ ব্যাবসায়ীদের জন্য দেশগুলো খুলে দেয়া হয়। আমির তার সিংহাসনেই থাকেন রাশিয়ার অধীনস্ত হয় এবং রুশদের সাহায্যে শহরিসবজ, জেরাবশান উপত্যকা ও পর্বতাঞ্চল১৮৭০ এবং পশ্চিম পামির১৮৯৫ দখল করে।

১৯ শতকের শেষের দিকে জাদিদবাদী যারা নিজেদেরকে ইসলামি-সামাজিক আন্দোলন হিসাবে সমগ্র অঞ্চল জুড়ে প্রতিষ্ঠা করে। যদিও জাদিদবাদীরা আধুনিক ছিল এবং রুশ-বিরোধী ছিল না, কিন্তু রুশরা এই আন্দোলনকে একটি হুমকিরূপে দেখে। রুশ সৈন্যদের দরকার ছিল কখান্দ এর খান্তের বিদ্রোহ থামাতে ১৯১০ এবং ১৯১৩ এর মধ্যে। জুলাই ১৯১৬ সালের দিকে অন্যান্য জায়গায় বিদ্রোহ হয় যখন কুজান্দে রুশ সৈন্যদের উপর আক্রমণ হয় প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ষড়যন্ত্রের হুমকি হিসাবে। যদিও রুশ সৈন্যরা দ্রুত কুজান্দকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে, সারা বছরজুড়ে তাজিকিস্তানের বিভিন্ন স্থানে বিদ্রোহ হতে থাকে।

১৯২০ সালের আগস্টে শেষ আমির সৈয়দ আলিম খান সিংহাসনচুত্য হয় সোভিয়েত সৈন্য দ্বারা। ১৯২০ সালের ৬ অক্টোবর আমিরাতকে বুখরান সোভিয়েত গণপ্রজাতন্ত্র নামে প্রচারিত হয়।



                                     

4.2. আধুনিক ইতিহাস১৮৬৮ – ১৯৯১ বাসমাখী আন্দোলন ১৯১৬-১৯২৪

বাসমাখী আন্দোলন বা মধ্য এশীয় বিদ্রোহ ছিল রুশ সাম্রাজ্য এবং সোভিয়েত শাসনের বিরুদ্ধে একটি অভ্যুত্থান, যেটি ১৯১৭ সালের রুশ বিদ্রোহেপর প্রখর হয়ে উঠে পুরো মধ্য এশিয়া জুড়ে। এই আন্দোলনের শিকড় মূলত ১৯১৬ সালে রুশ সাম্রাজ্য দ্বারা ব্যাধ্যতামূলকভাবে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের মুসলিম সৈন্যদল নিয়োগ করা। ১৯১৭ সালের অক্টোবর বিদ্রোহের পরবর্তি সময়ে বলশেভিকরা রুশ সাম্রাজ্যের বিভিন্ন অংশ দখল করতে থাকে ফলে রুশ গৃহযুদ্ধের শুরু হয়। তুর্কেনিস্তানের মুসলিমরা রাজনৈতিক আন্দোলনের মাধ্যমে একটি স্বশাসিত সরকার গঠন করে ফেরঘানা উপত্যকার শহর ককান্দে। বলশেভিকরা ১৯১৮ সালের ফেব্রুয়ারি তে একটি আক্রমণ করে এবং একটি গণহত্যা চালায় যাতে ২৫০০০ এরও বেশি লোকদের হত্যা করে। এই গণহত্যা বাসমাখী আন্দোলন আরও দৃঢ় করে যারা গেরিলা এবং প্রচলিত যুদ্ধ চালায় যেটি ফেরঘানা উপত্যকার বিরাট অংশ দখল করে এবং যার বেশিরভাগই তুর্কিস্থানের।

১৯২০ দশকের প্রথম দিকে এই অপরিকল্পিত আন্দোলন উঠানামা করে কিন্তু ১৯২৩ সালের দিকে রেড় আর্মি বা লাল সৈন্যবাহিনীর কাছে অসংখ্য পরাজয় লাভ করে। লাল সেনাদের কিছু বিশাল অভিযান এবং অর্থনৈতিক ও ইসলামী সম্পর্কে অনুমোদন দিলে ১৯২০ দশকের মধ্যবর্তী সময়ে বাসমাখীরা জনপ্রিয়তা হারায়। সোভিয়েত/রুশ শাসন বিরুধীতায় পুনরায় আগুন জ্বলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে যৌথীকরণ অভিযানের ফলে।

এই দ্বন্দ্বের ফলে এবং সোভিয়েতের কৃষি নীতির কারণে মধ্য এশিয়া একটি দুর্ভিক্ষের মুখে পড়ে এবং অসংখ্য প্রাণ হারায়।

                                     

4.3. আধুনিক ইতিহাস১৮৬৮ – ১৯৯১ সোভিয়েত শাসন১৯২০-১৯৯১

১৯২৪ সালে তাজিক স্বতান্ত্রিক সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র সৃষ্টি হয় উজবেকিস্তানের একটি অংশ হিসাবে, কিন্তু ১৯২৮ সালের দিকে সীমান্ত নির্ধারণ করা হয়প্রাশাসনিক সীমানির্ধারকালে যেখানে প্রাচীন তাজিক শহর বুখারা এবং সমরকন্দকে তাজিকিস্তান এসএসআর এর বাইরে রাখা হয়। নতুন সৃষ্টি হওয়া উজবেক এসএসআর এর জনগণ হিসাবে অনেক তাজিকদের চাপ দেয়া ‘উজবেক’ হিসাবে পরিচয় মেনে চলার জন্য এবং প্রাণভয়ে অনেকেই বাধ্য হয় তাদের নিজেদের পরিচয় বদলাতে এবং ‘উজবেক’ হিসাবে পাসপোর্ট ব্যাবহার করতে। তাজিক বিদ্যালয়গুলো বন্ধ হয়ে যায় এবং তাজিকরা কোনপ্রকার নেতৃত্ব পর্যায়ে নিযুক্ত করা হত শুধুমাত্র তাদের জাতিভুক্ততার কারণে। ১৯২৪ এবং ১৯৩৪ কৃষিতে যৌথীকরণ এবং দ্রুত কটন উৎপাদনের বৃদ্ধি পায়, বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলে। সোভিয়েত যৌথীকরণ নীতি কৃষকদের বিরুদ্ধে সহিংসতা নিয়ে আসে এবং পুরো তাজিকিস্তান জুড়ে পুনর্বাসন করতে বাধ্য হয়। এর সাথে কিছু কৃষক যৌথীকরণের বিরুদ্ধে লড়াই করেন এবং বাসমাখী আন্দোলনের পুনরুথান করেন। কিছু ছোট আকারের শিল্পোন্নত হয় সেসময়ে সেচ পরিকাঠামো সম্প্রসারণের সাথে।

সরাসরি মস্কো হতে পরিচালনার মাধ্যমের দুই দফা ১৯২৭-১৯৩৪ এবং ১৯৩৭-১৯৩৮ সোভিয়েতকে পরিষ্কার করা হয়, ফলে তাজিকিস্তানের সাম্যবাদী দলের সকল স্তর থেকে প্রায় ১০০০০লোককে নির্বাসন করা হয়। জাতিগতভাবে রুশদের প্রেরণ করা হয় বহিষ্কৃত হওয়াদের স্থলে এবং এরি সাথে রুশরা দলীয় সকল পর্যায়ে আধিপত্য করে, উচ্চপর্যায় থেকে শুরু করে প্রথম সম্পাদক পদ পর্যন্ত। ১৯২৬ থেকে ১৯৫৯ সালের মধ্যবর্তী সময়ে তাজিকিস্থানের জনগণের মধ্যে রুশদের সংখ্যা ১% থেকে ১৩% পর্যন্ত বাড়ে। বুবুজন ঘাফুর্ভ তাজিকিস্তানের সাম্যবাদী দলের প্রথম সচিব ছিলেন ১৯৪৬-১৯৫৬ পর্যন্ত একমাত্র তাজিকিস্তানী রাজনীতিবিদ যে দেশের বাইরে সোভিয়েত সময়কালে তাৎপর্যপুর্ণ। দপ্তরে তার উত্তরাধিকারীরা হল তার্সুন উলজাবায়দেভ ১৯৫৬-১৯৬১, জাব্বুর রাসুলভ ১৯৬১-১৯৮২, এবং রহমান নবীব১৯৮২-১৯৮৫, ১৯৯১-১৯৯২।

১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সোভিয়েত সেনাবাহীনেতে তাজিকদের অংশ নেয়া বাধ্যতামূলক করা হয় এবং প্রায় ২,৬০,০০০ তাজিক নাগরিক জার্মানি, ফিনল্যান্ড এবং জাপানের বিরুদ্ধে লড়াই করে। ৬০,০০০৪% এবং ১,২০,০০০৮% এর মধ্যে তাজিকিস্তানের ১৫,৩০,০০০ তাজিক নাগরিকদের হত্যা করা হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়। যুদ্ধ পরবর্তি সময়ে এবং স্ট্যালিনের শাসনকালে তাজিকিস্তানের কৃষি এবং শিল্পের বিস্তার করার চেষ্টা করা হয়। ১৯৫৭-১৯৫৮ এর দিকে নিকিতা ক্রুশ্চেভ এর কৃষি নগর উন্নয়ন পরিকল্পনা তাজিকিস্তানের উপর বিশেষ দৃষ্টি দেয়, যেখানে বসবাস, শিক্ষা এবং শিল্পের অবস্থা সোভিয়েতে অন্যান্য রিপাবলিক অঞ্চল হতে পিছেয়ে ছিল।

১৯৮০ এর দশকে ইউএসএসআর এর মধ্যে তাজিকিস্তানের সবচেয়ে কম পারিবারিক সঞ্চয় হার ছিল, সর্বনিম্ন আয় শতকরা প্রতি পরিবারে, এবং সবচেয়ে কম বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর করেছিল প্রতি ১০০০জনের মধ্যে।

জীবনযাত্রার মান হ্রাস পাচ্ছিল তাজিকিস্তান সাম্যবাদীদলের প্রথম সম্পাদকের দ্বয়িত্ব থাকা কাহার মাখামভ এর সময়কালে। মাখামভের তাজিক অর্থনৈতি বাণিজ্যিকরণের চেষ্টা অবস্থা অবনতি ঘটায় দরিদ্র বসবাস এবং বেকারত্বের। সোভিয়েত পতনের মুখে তাজিকিস্তান অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত ছিল এবং তা থেকে উদ্ধারের আশা একদম ক্ষীণ ছিল। মিখিল গর্ভাচেভের পরিবর্তনের প্রচরণা নীতি তাজিক জনগণের কন্ঠের মধ্যে আশা যোগায়। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন এর পতন ঘটে এবং তাজিকিস্তান স্বাধীন হিসাবে ঘোষিত হয়।

                                     

5. প্রজাতন্ত্রী তাজিকিস্তান১৯৯১ থেকে বর্তমান

তাজিকিস্তান সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র এসএসআর ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের শেষ প্রজাতন্ত্র যেটি স্বাধীন হিসাবে ঘোষণা দেয়। ১৯৯১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র ঐক্য ইউএসএসআর এর পতনেপর তাজিকিস্তান তাদের স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়। সেসময় তাজিক ভাষাতাজিকিস্তানের রাষ্ট্রীয় ভাষা হিসাবে স্বীকৃতি দেয়া হয় তাজিকিস্তান এসএসআর এর রুশ ভাষার পাশাপাশি, এবং তাজিক ভাষা ব্যাবহারের জন্য উদ্বুদ্ধ করা হয়। জাতিগতভাবে রুশ যারা সরকারি পদে ছিল তাদের অনেকেই স্থান হারায় এবং তাদের প্রভাব হারায় ও অসংখ্য তাজিক রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হয়ে উঠে। দেশটি প্রায় সাথে সাথে গৃহযুদ্ধে পড়ে যার মধ্যে বিভিন্ন দল একে অপরের সাথে যুদ্ধ করছিল। এসকল দল মূলত বিভিন্ন গোত্রের আনুগত্য প্রকাশ করে। অমুসলিম, বিশেষ করে রুশ এবং ইহুদীরা সেসময় দেশটি থেকে পালিয়ে যায় নিপীড়নের কারণে, এছাড়াও দরিদ্রতা বৃদ্ধি এবং পশ্চিমা বা অন্যান্য সাবেক সোভিয়েত প্রজাতন্ত্র সমূহ অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সুযোগের কারণে।

ইমোমলি রহমান ১৯৯৪ সালে ক্ষমতায় আসেন এবং আজকে পর্যন্ত শাসন করে আসছেন। তাজিকিস্তানের গৃহযুদ্ধ এর সময় জাতিগতভাবে দমন বিতর্কিত ছিল। যুদ্ধ শেষে তাজিকিস্তান সম্পূর্ন বিধ্বংস ছিল। নিহতের সংখ্যা প্রায় ১,০০,০০০। ১.২ মিলিয়নের মত জনসংখ্যা শরণার্থী ছিল দেশটির ভিতরে এবং বাইরে। ১৯৯৭ সালে, রহমান এবং বিরোধীদলসমূহ তাজিক বিরোধী মহাজোট এর মধ্যে শান্তিচুক্তি হয়। ১৯৯৯ সালে শান্তিপূর্নভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, কিন্তু বিরোধীদল থেকে বলা হয় যে সেটি পক্ষপাতদুষ্ট, এবং রহমান পুনঃনির্বাচিত হয় প্রায় সর্বসম্মতভাবে। রুশ সৈন্য তাজিকিস্তানের দক্ষিণদিকে ঘাঁটি প্রতিষ্ঠা করে, আফগানিস্থানের সাথে সীমান্ত পাহারা দেয়ার জন্য, যেটি ২০০৫ এর গ্রীষ্ম পর্যন্ত থাকে। ১১ সেপ্টেম্বরের হামলাপর মার্কিন, ভারতীয় এবং ফ্রেঞ্চ সৈন্যও দেশটিতে ঘাঁটি প্রতিষ্ঠা করে।

Free and no ads
no need to download or install

Pino - logical board game which is based on tactics and strategy. In general this is a remix of chess, checkers and corners. The game develops imagination, concentration, teaches how to solve tasks, plan their own actions and of course to think logically. It does not matter how much pieces you have, the main thing is how they are placement!

online intellectual game →